গল্প
|

১৪ ভুতের গল্প সিরিজ – তৃতীয় গল্প

নিশির ডাক: মধ্যরাতের ফিসফিস আঁধার নামার ইতিকথা বর্ষার শেষে এক ঘন অন্ধকার রাত। আকাশজুড়ে থমথমে মেঘের দল, যেন কোনো ভারী শোকের ছায়া পুরো গ্রামকে গ্রাস করেছে। পশ্চিমের বাঁশবাগান থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝির ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। ইলেক্ট্রিসিটি এই গ্রাম, শিবপুর-এর বিলাসিতা নয়; তাই কুপি আর কেরোসিনের দুর্বল আলোই এখানকার সম্বল। ঘন অন্ধকারে চারিদিকে…

পেত্নীর মাছ চুরি
|

১৪ ভুতের গল্প সিরিজ – দ্বিতীয় গল্প

পেত্নীর মাছ চুরি ও প্রতিশোধ নিশ্চিন্দিপুরের নীরব অভিশাপ নিশ্চিন্দিপুর। নামটা যতটাই শান্তিদায়ক, গ্রামের ভেতরের পরিবেশ ততটাই থমথমে। গ্রামটির এক প্রান্তে, ঘন জঙ্গলের কিনারা ঘেঁষে একটা বিশাল পুকুর। স্থানীয়রা একে বলে ‘সায়র’। এই সায়রের জলে নাকি রাতের বেলা মাছের খেলা দেখা যায়—এতই মাছ যে, জলের উপরে তাদের লম্ফন পরিষ্কার শোনা যায়। কিন্তু কেউ সেই সায়রে মাছ…

ভূতের গল্প
|

১৪ ভূতের গল্প সিরিজ – প্রথম গল্প

ব্রহ্মদৈত্যে ভূতের শেষ অভিশাপ রথবাড়ির জীর্ণ প্রাসাদ রাত তখন গভীর। বাইরে অঝোরে ঝরছে কার্তিকের বৃষ্টি। বিজলির তীব্র আলোয় ক্ষণিকের জন্য আলোকিত হচ্ছে প্রায় দুশো বছরের পুরোনো সেই রথবাড়ির জীর্ণ প্রাসাদ। ঘনকালো আকাশের দিকে মাথা তুলে থাকা চূড়োগুলো যেন কোনো বিশাল দানবের আঙুল, যা শহরের শেষ প্রান্ত থেকে মানুষের বসতিকে সতর্ক করছে। এই রথবাড়িকে নিয়ে লোকমুখে…

খেজুরগাছের ছায়া
|

বটগাছের ছায়া

মেলার আলো ও ছায়া পূজার আগের রাতে গ্রামের খেজুরগাছের তলায় বসেছে ছোট্ট মেলা। বাতাসে মিষ্টির গন্ধ, নারকেল, রসগোল্লা, পিঠে-পুলি—সব মিলিয়ে যেন স্বপ্নের এক কোণা। মেলার রঙিন বাতির ঝলকানি আর ঢোলের তাল, নারীদের চিৎকার-হাসি, শিশুদের দৌড়ঝাপ—সব মিলিয়ে গ্রামের আকাশ কেঁপে উঠছে। তবে এই আনন্দের মাঝেই অদ্ভুত কিছু ঘটতে শুরু করে। প্রথমে ছোট ছোট ঘটনা—এক বা দুই…

পোড়ো বটগাছের রহস্য
|

পোড়ো বটগাছের রহস্য

ফাঁকা মাঠের নিস্তব্ধতা বাংলার পশ্চিমের এক অজ পাড়াগাঁ, নাম তার গোলকপুর। চারপাশে ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়, পুকুর আর কাদা মাখা সরু পথ। দিনের বেলায় এই গ্রাম প্রাণবন্ত—ছেলেমেয়েরা খেলে, গরু-মহিষ মাঠে চরায়, মহিলারা ধান ঝাড়ে আর পুরুষেরা হালচাষ করে। কিন্তু রাত নামলেই যেন অন্য এক গ্রাম হয়ে ওঠে গোলকপুর। অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গেই সব যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়,…

অভিশপ্ত বইয়ের রহস্য
|

অভিশপ্ত বইয়ের রহস্য

তালাবদ্ধ দরজা কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের ব্যস্ততম রাস্তায় পুরোনো এক লাইব্রেরি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দেড়শো বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে। একসময় এখানে প্রতিদিন ভিড় জমত ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক আর সাহিত্যপ্রেমীদের। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে— নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল বইয়ের ভিড়ে এই লাইব্রেরি যেন একরকম বিস্মৃতপ্রায়। তবুও এর ভেতরে পা রাখলেই মনে হয়, ইতিহাস যেন নীরবে শ্বাস নিচ্ছে প্রতিটি তাকের…

“পথরোধ”
|

“পথরোধ”

রাতের মাঠপথ আষাঢ় মাসের কালো রাত। আকাশে চাঁদ নেই, মেঘে ঢাকা তারার আলোও ম্লান। চারপাশে নিস্তব্ধতা, মাঝে মাঝে শেয়ালের ডাক আর ব্যাঙের ডাক শুনে বুক কেঁপে ওঠে। বাতাসে ভিজে মাটির গন্ধ, যেন ঝড় আসার আগে এক অজানা অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বিনয় ধানক্ষেতে কাজ শেষ করে ফিরছিল। শর্টকাট ধরেছিল মাঠের সরু পথ ধরে। গ্রামের প্রবীণরা বারবার…

অতিথির রাত
|

“অতিথির রাত”

অচেনা অতিথির আগমন বর্ষার এক সন্ধ্যা। আকাশজুড়ে কালো মেঘ, মাঝেমাঝে বিদ্যুতের ঝলকানি আর গর্জন। গ্রাম কুড়িপাড়া তখন প্রায় অন্ধকারে ডুবে গেছে। ধানের মাঠগুলো বৃষ্টির জলে ভেসে উঠেছে, কাঁচা পথ কাদায় পিচ্ছিল, চারপাশে শুধু ব্যাঙের ডাক আর বাঁশঝাড়ের মধ্যে শিস দেওয়া বাতাসের শব্দ। এমন সময় গ্রামের বাইরের মাটির রাস্তায় দেখা গেল এক অচেনা মানুষকে। গায়ের গামছাটা…

চৌধুরীবাড়ির রক্তচিহ্ন
|

চৌধুরীবাড়ির রক্তচিহ্ন

নিষিদ্ধ বাড়ি গ্রামের উত্তরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এক ভয়াল ছায়া—চৌধুরীবাড়ি।ভাঙা দালান, কালচে শ্যাওলায় ঢেকে যাওয়া ইটের দেয়াল, কুঁজো হয়ে ঝুলে থাকা বিশাল লোহার ফটক।দিনের বেলাতেও সেখানে একটা চাপা অন্ধকার ঘনীভূত থাকে। গ্রামবাসীরা বলে—“ওই বাড়ির ভেতরে এখনও জমিদারের পাপ ঘুমিয়ে আছে।রাত নামলে শুনতে পাবে চিৎকার, শিকল টানার শব্দ…কেউ যদি ওই আওয়াজ অনুসরণ করে ভেতরে যায়, আর ফেরে…

অন্ধকার বনভূমির আহ্বান
| |

অন্ধকার বনভূমির আহ্বান

রহস্যময় বন সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের মানুষ দাওয়ায় আলো জ্বালিয়ে বসে থাকে। দূর থেকে ভেসে আসে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, হাওয়ার সঙ্গে গাছের পাতার সোঁ সোঁ শব্দ। কিন্তু গ্রামের ঠিক উত্তরে যে ঘন অরণ্য, সেখানে নামলেই হাওয়া থমকে যায়, চারদিক যেন হঠাৎ নিস্তব্ধ। লোকজন বলে, ওই বনভূমি নাকি “জীবন্ত”—ওই বনের গাছেরা নিশ্বাস নেয়, মাটির নীচে কবর দেওয়া…