বৃষ্টিভেজা চিঠি

“বৃষ্টিভেজা চিঠি”

পুরোনো ডায়েরির ভেতর (“বৃষ্টিভেজা চিঠি” গল্পের সূচনা) বৃষ্টি পড়ছিল সেদিন দুপুর থেকে।আকাশ যেন নিজের মনের মতো কাঁদছিল—টিপটিপ, অবিরাম।রক্তিম বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিল। অফিসে ছুটি, আর বাইরে এত বৃষ্টি যে কোথাও যাওয়ার প্রশ্নই নেই।হঠাৎ খেয়াল করল—বইয়ের তাকের ওপর পুরোনো ডায়েরিগুলো ধুলো জমে আছে।একটা একটা করে নামাতে শুরু করল সে, ভাবল অনেকদিন পরে একটু গোছানো হোক। পাতা…

লাস্ট সিন অনলি

“লাস্ট সিন অনলি”

নীল টিকের ওপারে রিয়া আর আরিয়ান—দু’জনের দেখা হয়েছিল একেবারে হঠাৎ।একটা অনলাইন বুক রিডিং ক্লাবে, যেখানে নাম-পরিচয় নয়, mattered শুধু বইয়ের প্রতি ভালোবাসা। প্রথমে তারা কেবল বই নিয়ে কথা বলত— কে কোন লেখক পছন্দ করে, কে কোন চরিত্রে নিজেকে খুঁজে পায়। তারপর ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে গেল কথাবার্তা—রাত্রির শেষ মেসেজ, সকালের শুভেচ্ছা, দিনের ছোটখাটো খবর।…

ফোঁটা ফোঁটা ভালোবাসা

ফোঁটা ফোঁটা ভালোবাসা

অচেনা সঙ্গী, ভেজা সকাল বর্ষার সকাল। হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম যেন ভিজে উঠেছে আকাশের অবিরাম ঝরনায়। ছাতার নিচে ছুটে চলা মানুষের ভিড়, কোলাহলের ভেতরেও বৃষ্টির গন্ধে বাতাস যেন অন্যরকম হয়ে উঠেছে। ট্রেনের বাঁশি বাজছে দূরে, কোথাও গরম চায়ের ভাঁপ মিশছে বাতাসে, আর ভিজে রেলের লোহার গন্ধ মিলে গেছে কোলাহলের সঙ্গে। মাধুরী ধীরে ধীরে কামরার জানলার পাশে…

এক বৃষ্টিভেজা রাত

এক বৃষ্টিভেজা রাত

অচেনা শহর, অচেনা দেখা কলকাতা শহরটা তনয়ার কাছে নতুন। ছোটবেলা থেকে সে শুনে এসেছে এই শহরের গল্প— বইয়ের পাতায়, টিভির পর্দায়, কিংবা মায়ের মুখে। কিন্তু বাস্তবের কলকাতা যেন কেমন আলাদা। এত আলো, এত মানুষ, এত শব্দ— সব মিলিয়ে প্রথম দেখায় ভীষণ অচেনা। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বেরিয়েই যেন একসাথে হাজারো শব্দ এসে আঘাত করল তার কানে।…

"শুধু তুমি থেকো পাশে"

শুধু তুমি থেকো পাশে

পর্ব ৫ প্রতিকূলতার আগুন “তুমি থাকলেই আমি লড়াই করতে পারি, তুমি না থাকলে পৃথিবীটাই অচেনা হয়ে যায়।” গ্রামের হাওয়ায় এক অদ্ভুত ভারী গন্ধ মিশে গেছে। যেন বাতাসও মানুষের কথায়, মানুষের গুজবে ভার হয়ে উঠছে। মাঠ থেকে ফেরা কৃষকের দল, হাটে বসা দোকানদার, পুকুরঘাটে দাঁড়ানো মেয়েরা—সবাই যেন একটাই বিষয়ে কথা বলছে—“মায়া”। কেউ বলছে,“মেয়েটা একেবারে বখে গেল।…

যদি এমন হতো

যদি এমন হতো—

যদি সময়টা আবার ফিরিয়ে নেওয়া যেত !!!!! প্রথম দিনের কচি সম্পর্ক সকালবেলার রোদ তখনও পুরোপুরি উঠেনি। স্কুলের মাঠে শিশির ভেজা ঘাস ঝিলমিল করছে। ঘণ্টা বাজতে না বাজতেই টিফিন বক্স হাতে তাড়াহুড়ো করে স্কুলে ঢুকল অনন্যা। তার চশমার কাঁচে কুয়াশার হালকা আবরণ জমে আছে, কপালে ঝুলে থাকা চুলে শিশির বিন্দুর ঝিলিক। ঠিক তখনই হেঁটে আসছিল অরিজিত—হাতে…

চিঠি

বিরহের চিঠি

“কাগজে কলম ধরতেই হাত কেঁপে উঠল, যেন এই প্রথমবার নয়, শেষবারের মতো তোমাকে চিঠি লিখছি—আমার অনামিকা।” প্রথম দেখা গ্রামের বাড়িটা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল। উঠোনে মাদুর পাতা, পাড়ার কাকিমারা ব্যস্ত চায়ের কাপ আর মিষ্টির থালা সাজাতে। আর ঘরের ভেতরে বসে আছে অনামিকা, নতুন শাড়িতে লজ্জায় লাল হয়ে। ঘরে ঢুকলেন অভিজিৎ তার বাবা-মাকে নিয়ে।…

“শেষ দেখা”

“শেষ দেখা”

আকস্মিক দেখা আকাশটা তখন ভারী মেঘে ঢাকা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে আর বেশি দেরি নেই। ছোট্ট শহরের সেই পুরোনো রেলস্টেশন—যেখানে প্রতিদিন কয়েকটা ট্রেন থামে, আবার চলে যায়। লোকজনও বেশি নয়। ভিজে প্ল্যাটফর্মে হালকা ধোঁয়া মিশে আছে চায়ের কাপে, আর দূরে কোথাও বাজছে বৃষ্টির শব্দ। ঋতিকা ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল এক কোণে। বাড়ি ফেরার তাড়া নেই,…

“শুধু তুমি থেকো পাশে”

“শুধু তুমি থেকো পাশে”….

চতুর্থ পর্ব সমাজের বাঁধন “যখন সব দিক থেকে বাঁধন আসবে, তখন শুধু তুমি থেকো পাশে…” গ্রামের আকাশে তখন পূর্ণিমার আলো। চারপাশে সাদা-নীল আভা, নদীর বুকে রুপোলি ঝিলিক। মায়া আর অয়ন নদীর ধারে বসেছিল, নীরবে। দূরে ঢোল-বাদ্যের আওয়াজ ভেসে আসছিল—গ্রামে পূজোর আয়োজন চলছে। কিন্তু মায়ার চোখে যেন অদৃশ্য অন্ধকার। কানাঘুষো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্রামের অলিগলিতে,…

ভুলুর বিবাহ অভিযান

“ভুলুর বিবাহ অভিযান”

বাংলার ছোট্ট একটি গ্রাম—শালবন। এ গ্রামটার নাম শুনলেই সকলে মনে করে, ওখানে নিশ্চয়ই খুব শান্তিপ্রিয়, গম্ভীর, ভদ্র মানুষদের বসবাস। কিন্তু শালবনের বাসিন্দারা জানে, শান্তি সেখানে টেকসই নয়, কারণ আছে এক এবং অদ্বিতীয় ভুলু মণ্ডল। ভুলু গ্রামে জন্মেই যেন ঘোষনা দিয়েছিল,“আমি শান্তি আনব না, আমি হাসি-ঠাট্টা আনব!” খুব বেশি পড়াশোনা করেনি, কিন্তু শোনে অনেক “আইডিয়া” মাথায়…